আওয়ামী লীগের সংসদীয় টিম কুমিল্লায়

কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবরটির তথ্যের সত্যতা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার রাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সায়েদুল আরেফিনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ ও আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া আফরিন। কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া বৃহস্পতিবার নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির টহল অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বিষয়টি তদন্ত করতে আওয়ামী লীগের একটি সংসদীয় টিম বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন।

ওই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন- জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠিনক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। একই সময়ে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন। কমিটির নেতৃবৃন্দ কুমিল্লা সার্কিট হাউজে দলীয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন।

ঘটনাস্থলে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি গোষ্ঠী ন্যাক্কারজনক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। যারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ফয়েজ আহাম্মদ নামের প্রধান সন্দেহভাজনসহ ৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার শুরু করে নগরীতে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনারই মামলা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ সংসদীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

এর আগে বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুমিল্লার খবরটি খতিয়ে দেখছে সরকার। এ নিয়ে ইতোমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক জরুরি ঘোষণায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এ কথা বলেন।

ওই ঘোষণায় তিনি বলেন, কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবরটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

ঘোষণায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: