কুমিল্লায় কাউন্সিলর খুন: হত্যা মিশনে ছিল প্রশিক্ষিত একাধিক ভাড়াটে কিলার

কুমিল্লায় কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালিয়ে সহযোগীসহ কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল হত্যার ঘটনার তিন দিন পার হয়েছে। তবে এখনও হত্যার কারণ ও জাড়িতদের শনাক্ত করতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে গতকাল বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আজ বা কাল সব রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে। খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে থাকা তিনটি ও বিপরীত পাশের একটি ভবনে থাকা দুটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্নেষণ করছে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা। প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে, হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া মুখোশধারীদের মধ্যে অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষিত একাধিক ভাড়াটে কিলার ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্নেষণ করে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে হত্যার ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে মো. সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেন। গতকাল র‌্যাবের একটি টিম মামলার আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি সুজানগর পূর্বপাড়া বউবাজার এলাকার মৃত কানু মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী নবগ্রাম এলাকার জানু মিয়ার ছেলে শাহ আলমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করে। এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হচ্ছেন- সদর উপজেলার নবগ্রামের শাহ আলমের ছেলে সোহেল ওরফে জেল সোহেল, সুজানগর এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে মো. সাব্বির হোসেন, পূর্বপাড়া বউবাজারের মৃত কানু মিয়ার ছেলে সুমন, সংরাইশ এলাকার কাকন মিয়ার ছেলে সাজন, তেলীকোনা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমান রকি, সুজানগর পূর্বপাড়ার মৃত জানু মিয়ার ছেলে আলম, নূর আলীর ছেলে জিসান মিয়া, সংরাইশের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে মাসুম, নবগ্রামের মৃত সামছুল হকের ছেলে সায়মন ও সুজানগর বউবাজার এলাকার কানাই মিয়ার ছেলে রনি।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হলেও কিলিং মিশনে পেশাদার কিলার থাকতে পারে। তাই মামলার এজাহারের বাইরে কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন ও খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। গতকাল সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কয়েকটি স্থানে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।
মামলার বাদী সৈয়দ মো. রুমন বলেন, ভাইকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন শোকে স্তব্ধ। আমাদের আশঙ্কা- কখন আবার ঘাতকরা পরিবারের অন্য সদস্যের ওপর হামলা চালায়।
র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, মামলার ৪নং আসামি সুমনকে গতকাল সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ছায়া তদন্ত করছি। স্থানীয়ভাবে তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র‌্যাবের একাধিক টিম কাজ করছে। শিগগির জড়িতদের গ্রেপ্তার করা যাবে।
গতকাল সকালে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও হরিপদ সাহার বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া বিকেলে সিআইডি কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আমরা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছি।
গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে নিজ কার্যালয়ে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) এক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বাহিনী চেষ্টা করছে। বিটিআরসির ‘এনওসি অটোমেশন এবং আইএমইআই ডেটাবেজ’ সিস্টেমের সঙ্গে এনটিএমসির ‘ইন্টিগ্রেটেড ল’ফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেম’-এর ইন্টিগ্রেশন বিষয়ক এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।

আরো পড়ুন: