ডা. প্রাণ গোপালের স্বপ্ন পূরণ এবার বাস্তবায়নের পালা

স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের। নির্বাচিত হয়েছেন এমপি হিসেবে।নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেছেন। ২/ ১ দিনের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ হবে তারপরই শপথ।
ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত একজন নামকরা চিকিৎসক। চিকিৎসা বিজ্ঞানের একজন শিক্ষক। একজন সফল মানুষ। পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক। অর্জনের শেষ নেই। টানা দুই মেয়াদে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
তারপরও কেন এমপি হতে হবে? একজন সজ্জন মানুষের এমপি হতে হবে কেন? সে প্রশ্ন করা হয়েছিল সেই ২০০৬ / ০৭ সালে তিনি তার উত্তরে বলেছিলেন আমি চান্দিনার মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। বিশেষ করে আমার অর্জিত অর্থ দিয়ে একটি বিশেষায়িত হসপিটাল করতে চাই।
এটি করতে এমপি হতে হবে কেন?
হা এটি করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম আমাকে এমপি হতে হবে। আমি যখন উদ্যোগ নিই তখনি দেখি রাজনৈতিক বাঁধা। এমপিরা না চাইলে কিছুই হয়না। আমি জনপ্রতিনিধিদের কোনো সহযোগিতা পাইনি। বরং বাধাগ্রস্ত হয়েছি।সেখান থেকেই স্বপ্ন দেখা।
নবম ( বাতিল হওয়া নির্বাচন) নির্বাচনেই আলোচনায় আসেন। দৈনিক ইনকিলাবের আমার লেখা একটি সংবাদের সুত্র ধরেই হোটেল মিয়ামীতে কুমিল্লার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় প্রাণ গোপাল দত্ত তার স্বপ্নের কথাটি তুলে ধরেন। ১/ ১১সময়ে তিনি আরো আলোচিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি আলোচিত ছিলেন। তারপর তারপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দুই মেয়াদে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক তৎপরতা চালান। সেসময় তিনি সেই স্বপ্নের কথাটি ব্যাপক প্রচার করেন।তিনি বলেন চান্দিনায় এমন বিশেষায়িত হসপিটাল হবে যেখানে কুমিল্লা সহ আশেপাশের মানুষ উপকার পাবে এমনকি ভারতের ত্রিপুরা সহ আশেপাশের মানুষ চিকিৎসা সেবায় ছুটে আসবে চান্দিনায়।
সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পালা শুরু হবে। সেই প্রত্যাশায় এলাকাবাসী।
প্রাণ গোপাল দত্ত ১৯৫৩ সালের ১ অক্টোবর চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি চান্দিনা পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭০ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রচার সম্পাদক ছিলেন। এরপর তিনি বিদেশ থেকে চিকিত্সাশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০৯ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে (৮ বছর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক পান। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন পাননি। প্রাণ গোপাল দত্ত বর্তমানে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।

প্রাণ গোপাল দত্ত প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি কুমিল্লা ও চান্দিনার মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

গত ৩০ জুলাই কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ মো. আলী আশরাফ মারা যান। তখন আসনটি শূন্য হয়।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রাণ গোপাল দত্তকে বিজয়ী ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এতে জাতীয় পার্টি ও ন্যাপের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে, প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রাণ গোপাল দত্তই ছিলেন। এ অবস্থায় একক প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত করা হয়। যেহেতু একজন প্রার্থী, তাই আর মার্কা দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এ অবস্থায় প্রাণ গোপাল দত্তকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এরপর গেজেট প্রকাশ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হবে।

আরো পড়ুন: