পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পনা করেই শ্বশুর -শাশুড়িকে হত্যা করেছেন শিউলী

কুমিল্লায় পল্লী চিকিৎসক সৈয়দ বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী সফুরা খাতুনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন ওই দম্পতির পুত্রবধূ নাজমুন নাহার চৌধুরী শিউলী। তবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি ছাড়া আরও দুই ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিলেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহীম।

অভিযুক্ত নাজমুন নাহার চৌধুরী শিউলী নিহত দম্পতির দুবাই প্রবাসী ছেলে সৈয়দ আমান উল্লাহর স্ত্রী । এই মামলায় অন্য দুই আসামি হলেন শিউলীর খালাতো ভাই জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের আবদুর রহিম মজুমদারের ছেলে জহিরুল ইসলাম মজুমদার সানি (১৯) এবং তার বন্ধু জেলার লালমাই উপজেলার দক্ষিণ জয়কামতা গ্রামের মো. শাহাবুদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান তুহিন (১৮)।

পুলিশ সোমবারই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহীম সাংবাদিকদের জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার সন্ধ্যায় নিহত দম্পতির মেয়ে সৈয়দা বিলকিস আক্তার কোতয়ালি মডেল থানায় শিউলীকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় প্রথমে শিউলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শিউলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকা থেকে জহিরুল ইসলাম সানি ও জেলার বরুড়া উপজেলার আড্ডা বাজার থেকে মেহেদী হাসান তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহত দম্পতির পুত্রবধূ শিউলী, সানি ও তুহিন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে নিহত ওই দম্পতির ২টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পনা করেই শ্বশুর -শাশুড়িকে হত্যা করেছেন শিউলী। জিজ্ঞাসাবাদে শিউলী জানিয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার রাতে খবর দিয়ে তিনি সানি ও তুহিনকে তার শ্বশুর বাড়িতে নেন। তখন বিল্লাল হোসেন বাসায় ছিলেন না। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা প্রথমে সফুরাকে হাত-পা বেঁধে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। পরে বিল্লাল হোসেন বাড়িতে এলে তাকেও তারা একই কায়দায় হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে গ্রেপ্তার শিউলীর প্রেমঘটিত কোনো ব্যাপার আছে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন, রাজন কুমার দাশ, সোহান সরকার ও ডিআইও-১ মনির আহাম্মদ, ডিবির ওসি সত্যজিৎ বড়–য়া, কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আনওয়ারুল আজিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

রোববার রাতে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সুবর্ণপুর গ্রামে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন ভোরে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়। লাশ দু’টি প্রবাসী দুই ছেলের অপেক্ষায় ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে বাড়িতে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে মরদেহ দুটি দাফনের কথা রয়েছে।

আরো পড়ুন: