বরুড়ায়৮ নৌকার মাঝি বেকায়দায় ২৩ বিদ্রোহী প্রার্থী

তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ১৫টি ইউপির মধ্যে ৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ৫২ জন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৯ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) ২৩ জন, জাকের পার্টির ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৪ জন এবং অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৩ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে একটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। বাকি আটটি ইউপিতেই দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যাধিক্যে নৌকার প্রার্থীরা বেকায়দায় রয়েছেন।

এই ৮টি ইউপিতে মোট প্রার্থী ৫০ জন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত ৮ প্রার্থীর বিপরীতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীই ২৩ জন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের এই ২৩ জন নেতার প্রায় সবাই কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছিমুল আলম চৌধুরী এবং বরুড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এ এন এম মইনুল ইসলামের অনুসারী।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম বলেন, ‘ঝলম ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দলের মনোনয়ন পাননি। এখন জনপ্রিয় নেতা মনোনয়ন না পেলে তিনি কী করবেন? তাই হয়তো তিনি প্রার্থী হয়েছেন। অনেক ইউপিতে ত্যাগী নেতারা দলীয় মনোনয়ন পাননি। আমি নৌকার প্রার্থীর পক্ষে। আমি আওয়ামী লীগ করি। দলীয় মনোনয়নের নাম চূড়ান্ত করার সময় আমার কোনো ভূমিকা ছিল না।’

বিদ্রোহী প্রার্থীর এই আধিক্যে সংশ্লিষ্ট ইউপিগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর অনুসারীরা মারামারিতেও জড়িয়ে পড়েন। ১২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে পুরোদমে পোস্টার সাঁটিয়ে, মাইকিং করে, অফিস বানিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন বিদ্রোহীরা।

২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে উপজেলার পয়ালগাছা ইউপিতেই কেবল বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ওই ইউপিতে ভোটের মাঠে লড়ছেন মাত্র দুজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আবদুল হাই গাজী।

উপজেলার আদ্রা ইউপিতে প্রার্থী হয়েছেন আটজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আবদুল করিমের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তাঁরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল হাসান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. মনজুর হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কিউ এম মাহফুজুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন মজুমদার এবং ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী নুরুল ইসলাম।

আড্ডা ইউপিতে প্রার্থী হয়েছেন ১১ জন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. দুলাল মিয়া, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবু ইউছুফ, যুবলীগ নেতা মামুন মিয়া এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. শামিম উদ্দিন।

খোশবাস উত্তর ইউপিতে প্রার্থী হয়েছেন আটজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. নাজমুল হাছানের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ছয়জন। তাঁরা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. জিয়াউল বাসার ভূঁইয়া, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত সহকারী মো. হারুন রশিদ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারী।

লক্ষ্মীপুর ইউপিতে প্রার্থী হয়েছেন চারজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী রয়েছেন দুজন। তাঁরা হলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাকিম ও তাঁর ছেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রাজ্জাক মিয়া।

আগানগর ইউপিতে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. ওমর ফারুক ভূঞার বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন একজন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাজহারুল ইসলাম।

ঝলম ইউপিতে প্রার্থী হয়েছেন চারজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুল আনাম এয়াকুবের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন দুজন। তাঁরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছফিউল্লাহ খন্দকার।

চিতড্ডা ইউপির প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাকারিয়ার বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন একজন। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনিরুজ্জামান জামাল।

ভবানীপুর ইউপিতে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন দুজন। তাঁরা হলেন যুবলীগের সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান ও জসিম উদ্দিন।

দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে আদ্রা ইউপি নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘দলের ৮০ শতাংশ লোক আমার পক্ষে। তাঁরা আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বদল চেয়েছিলেন। তৃণমূল আমাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য বলেছে, তাই প্রার্থী হয়েছি।’

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন লিংকন বলেন, ‘বিদ্রোহী এবং দলের পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করব। নির্বাচন থেকে না সরলে দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত অনেকে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের দলীয় পদ ওই অর্থে নেই। এরপরও বিষয়টি আমরা দেখছি।’

আরো পড়ুন: