যে কারণে আবারও বহিষ্কার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

রোববার বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৫ এর গ ধারা মোতাবেক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ নিয়ে তাকে পঞ্চমবারের মতো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নেওয়া এবং শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার জের ধরে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কার করা হয় বলে জানা গেছে।

বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম এবং ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান টিভি টকশো ও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রায়ই বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে আলোচনার জন্ম দেন।

সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে বিএনপিকে লজ্জাহীন এবং ব্যর্থ দল বলে উল্লেখ করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপির লজ্জা-শরম নেই। কোনো ভিশন নেই।

এর আগে তিনি এও বলেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার চেয়ে শেখ হাসিনার শাসনামল অনেক ভালো। এর আগে এক টকশোতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চরম বেয়াদব বলে আখ্যায়িত করেন।

একটি বেসরকারি টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিদেশীদের চাপেই বারবার আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে যেতে হচ্ছে বিএনপিকে।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, এভাবে দূর থেকে দলটাকে বিপদে ফেলো না। যদি সাহস থাকে বাংলাদেশে আসো। বিদেশে থেকে কোনো কাজ হয় না।

এদিকে বহিষ্কারের খবর পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্টাটাসে আখতারুজ্জামান বলেন, খবরটা শুনে প্রথমে হাসিই পেল এবং তারপরে ভেবে ভালোই লাগলো যে এখনও বিএনপিতে আমার গুরুত্ব ছিল! তারপরে খুব কষ্ট পেলাম। কষ্ট কেন পেলাম তা আর কারো সঙ্গে শেয়ার করতে ইচ্ছা করলাম না। যাই হোক দেশমাতা খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনা করি এবং সেই সাথে তারেক রহমানের সফলতা কামনা করি।

বহিষ্কারের বিষয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, আমাকে দল ক্ষমতায় থাকতেও বহুবার বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু আমি দল এবং দলীয় আদর্শচ্যুত হইনি। কেন না আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের রাজনীতি করি। আর এ কারণেই মাঝেমধ্যে অসহ্য যন্ত্রণায় সত্য কথা এবং সমালোচনা করে দলের সুবিধাভোগীদের শ্যেন দৃষ্টির শিকার হই। তবে, কথা একটিই আমি বিএনপিতে ছিলাম, আছি এবং থাকব।

আরো পড়ুন: