স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির আনুগত্য নয়

ধর্মে বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী অথবা ধর্ম-নিরাসক্ত যেকোনো মানুষ কিন্তু বেঁচে থাকা এবং সত্য ও মতপ্রকাশের অধিকার প্রসঙ্গে একমত। শুধু জালেম ও কর্তৃত্ববাদী ছাড়া। বিশ্ব সভ্যতা অথবা উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে থেমে থেমে এ লড়াইটা হলেও আমাদের জনপদে বর্তমানের যে তীব্র সঙ্কট তা বোধ করি কখনোই ছিল না।

লেখক সাংবাদিক মাত্রই আদি সাম্যবাদী সমাজের লোক। তাদের দেখা বা বানানো চরিত্রগুলোর বেশির ভাগই মজলুম। ‘… জীবন, বিদ্রোহ যা কিছু চলমান তার সত্যতা কোনো কালে কোনো দেশে নেতার মৃত্যুতে সমাপ্ত হয় না। কালে কালান্তরে উত্তরাধিকারের ধারাপথে থাকে তার অগ্রগতি’ মহাশ্বেতা দেবী। ভূমিকা। অরণ্যের অধিকার। কালজয়ী ভারতের এই ঔপন্যাসিকের অকপট স্বীকারোক্তি ‘লেখক হিসাবে, সমকালীন সামাজিক মানুষ হিসাবে, একজন বস্তুবাদী ঐতিহাসিকের সমস্ত দায়দায়িত্ব বহনে সর্বদাই অঙ্গীকারবদ্ধ। দায়িত্ব অস্বীকারের অপরাধ সমাজ কখনোই ক্ষমা করে না।’ কালজয়ী এই লেখিকা আরো বলছেন, ‘আমি বর্তমান সমাজব্যবস্থার বদলে আকাক্সিক্ষত, নিছক দলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। স্বাধীনতার একত্রিশ বছরে আমি অন্ন, জল, জমি, ঋণ, বেঠবেগারী কোনোটি থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি পেতে দেখলাম না। যে ব্যবস্থা এই মুক্তি দিলো না, তার বিরুদ্ধে নিরঞ্জন, শুভ্র ও সূর্য-সমান ক্রোধই আমার সকল লেখার প্রেরণা।’

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কি আমরা কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে নই? কথা বলা, লেখা, গণ ও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে সত্য ও মতের প্রকাশ সামান্যতম পর্যায়েও নেই। বিরুদ্ধে বললেই গ্রেফতার, পীড়ন, হয়রানি। দেশের বাইরে থেকে কেউ সমালোচনা করলেও তার স্থানীয় আত্মীয়স্বজন বা জমিজমার রেহাই নেই। গণজ্ঞাপনে শুধু চলে বিরোধীপক্ষের প্রতি বিষোদগার এবং জালেমের প্রতি মুগ্ধ অনুরাগ। সাংবাদিকতা বা লেখালেখি হয়ে পড়েছে সূর্যমুখী, সত্যমুখী নয়; সূর্যের দিকে মুখ রেখে যে ফুল ঘোরে।

নাগরিক সমাজও ফ্যাসিবাদবিরোধী বা অনুরাগী হিসেবে বিভক্ত হয়ে গেছে। রোজিনা ইসলামরা তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক হচ্ছেন।

নোয়াখালীতে মুযাক্কির মারা গেলেন। আবুল আসাদ, রুহুল আমিন গাজীরা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিনা জামিনে আটক থাকেন। কারাগারগুলো হা করে আছে ভিন্নমতিদের গ্রাস করতে। রাজনৈতিক তৎপরতা প্রায় বন্ধ। গণ ও সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি, বলাবলিই মতপ্রকাশের একমাত্র উপায় নয়। ভোটের অধিকারও এক রকমের মতপ্রকাশের অধিকার। কোন দল, প্রার্থী বা নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে মত দেয়াটাই ভোট। সভা-সমাবেশ, আন্দোলন, মানববন্ধন, লংমার্চও মতপ্রকাশের বাহন। আছে কি এখন এই দেশে? হেফাজতে ইসলাম ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসার বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করতে গিয়েছিল। হামলা, অপবাদ, চরিত্র হরণ, জেল-জুলুম সবই ঘটেছে আলেমদের কপালে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের অনুচ্ছেদ নিয়ে মতপ্রকাশকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এখন আর গণভোটের বিধান নেই। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশ এখন রাষ্ট্র মিয়ানমার, ভুটান, আফগানিস্তান, পাকিস্তানের নিচে নেমে গেছে। বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের মেয়াদে একটি দিনও অতিবাহিত হয়নি কোনো সাংবাদিক বা ভিন্নমতাবলম্বীকে জেলে না রেখে। রাষ্ট্রদ্রোহ আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট তাদের বড় প্রিয়।

কবি রবীন্দ্রনাথের ওই সাড়াজাগানো ভাষণটি কি আমাদের এরা শুনেছে? সংবাদপত্রের লেখালেখিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার ১৮৯৮ তে সিডিশন আইন জারি করেছিল। বিল পাসের দিন কলকাতার টাউন হলে ‘কণ্ঠরোধ’ শিরোনামের প্রবন্ধ পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তার কথাগুলো এমন- ‘দেশের মধ্যে অসন্তোষ জমে উঠলে তাকে প্রকাশ করতে দিতে হয়। সংবাদপত্র যতই অধিক এবং যতই অবাধ হবে, স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে দেশ ততই আত্মগোপন করতে পারবে না। রুদ্ধবাক সংবাদপত্রের মাঝখানে রহস্যান্ধকারে আচ্ছন্ন থাকা আমাদের পক্ষে বড়ই ভয়ঙ্কর অবস্থা। কঠিন আইন ও জবরদস্তিতে সম্পূর্ণ উল্টো ফল ফলে। রাজার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধতা ‘রাজদ্রোহ’ বলা যাবে না কেন? এ বড় কঠিন শব্দ ও উক্তি-প্রজার স্বার্থবিরোধী রাজকার্য প্রজাদ্রোহিতা! (রবীন্দ্র জীবন কথা। প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়)

পাশ্চাত্য কী বলে
মৌলিক অধিকার দাবির মূল কথা হলো- মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বকে একনায়কতন্ত্র, নির্মম স্বৈরতন্ত্র ও নির্দয় সাম্যবাদের প্রভাব থেকে হেফাজতের ব্যবস্থা করা, সসম্মানে জীবনের গ্যারান্টি দেয়া, তার ব্যক্তিগত যোগ্যতার উন্মেষ ঘটানো এবং চিন্তা ও কর্মের স্বাধীনতার এমন এক পরিমণ্ডলের ব্যবস্থা করা, যা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যান্য ব্যক্তির হস্তক্ষেপ থেকে নিরাপদ থাকবে।

পাশ্চাত্যের পণ্ডিতরা মৌলিক মানবাধিকারের বিবর্তনশীল ইতিহাসের সূচনা করেন খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের গ্রিস থেকে। এরপর খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতকে রোমান সাম্রাজ্যের পতন থেকে এক লাফে খ্রিষ্টীয় একাদশ শতকে প্রবেশ করেন। ষষ্ঠ থেকে দশম শতক পর্যন্ত ৫০০ বছরের ইতিহাস থেকে তারা মুখ ঘুরিয়ে নেন এ জন্য যে, সেটি ছিল ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগ।
গ্রিক দার্শনিকরা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিলেও তাদের লেখালেখিতে মানবীয় সমতা ছিল অনুপস্থিত। তারা মনুসংহিতার মতো সমাজকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করে এবং শাসন কর্তৃত্ব শুধু দার্শনিকদের প্রদান করেন। প্লেটো ও এরিস্টটল গণতন্ত্রের বিপক্ষে ছিলেন এবং ন্যায়বিচারকে শ্রেণিভিত্তিক করেন। এরিস্টটল তো এমনও বলেছেন, ‘ন্যায়বিচার হচ্ছে সেই গুণ যার সাহায্যে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ মর্যাদা অনুযায়ী এবং আইন অনুসারে অধিকার লাভ করে।’

এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রথমে সোচ্চার হন দার্শনিক যেনো। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক বিধান হচ্ছে চিরন্তন। তার প্রয়োগ কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপরই নয়, বরং প্রতিটি মানুষের ওপর হয়ে থাকে। এটি নিরপেক্ষ আইনের চেয়ে উচ্চতর এবং ন্যায় ইনসাফের সেসব মৌলিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।’ ‘চেতনার চোখ’ দিয়ে তা সুস্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে। এ আইনের অধীনে অর্জিত প্রাকৃতিক অধিকারগুলো কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের বিশেষ নাগরিকদের পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, বরং যেকোনো স্থানে বসবাসকারী মানুষ কেবল মানুষ ও বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ হওয়ার ভিত্তিতে তা লাভ করে থাকে (Cranston M/Human Rights Today/ London. 1964) রোমের বিখ্যাত আইনবিদ খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী সিসেরো এই মতবাদের সমর্থনে বলেন, ‘এই বিধান সর্বদা অপরিবর্তনীয় এবং এর বদল করা অপরাধ।’

মৌলিক অধিকার আন্দোলনের সূচনা হয় ব্রিটেনে রাজা ও পার্লামেন্টের ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। ১২১৫ সালে ম্যাগনাকার্টা ছিল ঐতিহাসিক দলিল। যদিও কোনো কোনো সমালোচকের মতে সেটি ছিল রাজন্যবর্গের, জনগণের নয়, স্বার্থরক্ষার দলিল। ১৪ থেকে ১৬ শতক পর্যন্ত ইউরোপ প্লাবিত হয় মেকিয়াভেলির দর্শনে, যার মূল মনোযোগ ছিল রাজাদের শক্তি বৃদ্ধি। উপমহাদেশের রাজতন্ত্রেও ছিল একই অবস্থা। চাণক্য, রাজা চন্দ্র গুপ্তকে মন্ত্রগুপ্তির দীক্ষা দিয়েছিলেন। শুধু রাজা ও মন্ত্রী চার কানই জানবে ওই মন্ত্র। ‘ষট্ট কর্ণাশ্ছিদ্যতে মন্ত্র’ : অর্থাৎ চার কান পেরিয়ে ছয় কানে গেলেই মন্ত্রের দফারফা। ১৭ শতকে মানুষের প্রকৃতিগত অধিকারের ধারণা ফিরে আসে। ফরাসি দার্শনিক দেনিস দিদেরোঁ ন্যাচারাল রাইটকে প্রকৃতি প্রদত্ত অধিকার হিসেবে গণ্য করেন। তার মতে, মানুষ একটি সার্বভৌম সদিচ্ছা (Universal Will) দ্বারা পরিচালিত হয়, যার মাধ্যমে সে ভালো-মন্দ বুঝতে পারে। এরপর লক, রুশো, হবস তাদের সামাজিক চুক্তির মতবাদ দিয়ে এসব সমর্থন করেন। এর পরিণতিতে ফরাসি মানবাধিকারের ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা পিতৃবর্গ খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী ছিলেন। ১৭৭৬ সালের ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া সনদে জেমস ম্যাডিসন রচিত অধিকার সনদ ঘোষিত হয়, যাতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আদালতের আশ্রয় লাভের গ্যারান্টি দেয়া হয়। টমাস জেফারসন রচিত ঘোষণায় বলা হয়, সব মানুষ সৃষ্টিলগ্নে সমান। তারা জন্মগতভাবে ঈশ্বর প্রদত্ত অপরিত্যাজ্য অধিকার পায়। এসবের মধ্যে রয়েছে জীবন, স্বাধীনতা ও সুখের সন্ধানের অধিকার।
ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র মানুষের মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে এসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলেও ফরাসি ও ব্রিটিশ উপনিবেশের মানুষদের জন্য তা প্রযোজ্য ছিল না। আমেরিকায় রেড ইন্ডিয়ানদের নির্মূল করা হচ্ছিল ওই সময়ই এবং দাসপ্রথা ছিল চরমে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রকৃতি মানে কী? রবীন্দ্রনাথও বলেছেন, আত্মা অপর আত্মার সাথে সম্পর্ক করতে চায়। কিন্তু কেন, কার নির্দেশে, আত্মার স্রষ্টাই বা কে, সে সম্পর্কে নিরুত্তর ছিলেন।

আজ দুনিয়াজুড়েই মানবাধিকার তথা নানা অধিকারের ক্ষেত্রে মানুষ চরম হতাশ। সর্বত্র আলোচনার বিষয় একচ্ছত্র রাজতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়ে দেয়া হলেও কথিত নির্বাচিত সংসদের গর্ভ থেকে যে একনায়কতন্ত্র জন্ম নিয়েছে, তাকে কিভাবে বশীভূত করা যায়? আদালতের ক্ষমতাও খর্ব হয়ে গেছে। আমরা বাংলাদেশে আজ যে অবস্থায় আছি, তা ওই নৈরাজ্যেরই চরম রূপ। এ পর্যালোচনায় যাওয়ার আগে ইসলামে অধিকারের অবস্থানটা জেনে নেয়া প্রয়োজন।

ইসলাম যা বলে
নবী করিম হজরত মুহাম্মদ সা: আল্লাহ মনোনীত একমাত্র দ্বীন যখন প্রচার ও প্রসার করলেন, সেখানে থেকেই প্রকৃত সভ্যতার শুরু। সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দাসপ্রথার বিলোপ, সাম্য ও মানবাধিকার কায়েম, নারীমুক্তি সবই তিনি করেছেন আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে। মহান স্রষ্টা মানুষের জন্য এ পৃথিবীতে আলো, বাতাস, পানি, খাদ্যসহ জীবন ধারণের যাবতীয় উপকরণই দান করেননি। সামাজিক জীবন পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানও দিয়েছেন। মানুষকে দুনিয়ায় পাঠানোর আগে তাকে অধিকার ও কর্তব্যের চেতনাশক্তি দিয়েছেন। এই শক্তির নামই বোধশক্তি বা Common sense.
“কসম মনের এবং তাঁর যিনি তাকে সঠিকভাবে গঠন করেছেন। অতঃপর মনকে ‘ইলহাম’ করেছেন তার অন্যায় (ভুল) ও ন্যায় (সঠিক), (পার্থক্য করার শক্তি) অবশ্যই সে সফল হবে যে ওই শক্তিকে উৎকর্ষিত করবে। আর অবশ্যই সে ব্যর্থ হবে যে ওই শক্তি অবদমিত করবে” (সূরা আশ শামস : ৭, ৮)। এই পৃথিবীতে আগমনকারী প্রথম মানব তার জীবনের সূচনা করেছিলেন জ্ঞানের আলো দিয়েই- ‘এবং আল্লাহ আদমকে সব জিনিসের নাম শিখিয়ে দেন’ (সূরা বাকারা : ৩১)। জগতের প্রত্যেক আত্মার সাথে আল্লাহ বৈঠক করে শপথ করিয়েছিলেন এবং তার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছেন ও দিচ্ছেন। সূরা বাকারার ২৭ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘যেসব লোক আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে- যে সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছে তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায় তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ ওই চেতনাশক্তিই হচ্ছে প্রাকৃতিক মতবাদ বা ইউনিভার্সাল উইল।

ইসলাম তার চিন্তা ও কর্মের ব্যবস্থায় অধিকার অর্জনের পরিবর্তে ফরজ অর্থাৎ অপরিহার্য কর্তব্য সম্পাদনের প্রতি বেশি গুরুত্বারোপ করেছে। অপরিহার্য কর্তব্য সঠিকভাবে পালিত হলে অধিকারের প্রশ্ন থাকতেই পারে না। কুরআনুল করিম মানব সম্প্রদায়কে বিভিন্ন জাতিকে, নবী-রসূলগণকে, ব্যক্তিগণকে, কাফের, মুশরিক ও মুমিনদেরকে যেখানে যেখানে সম্বোধন করেছে; সেখানেই তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এবং এই দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ভিত্তিতেই দুনিয়া ও আখেরাতের কৃতকার্যতা ও উন্নতি লাভের অঙ্গীকার করেছে। আল্লাহ মৃত্যু ও জন্ম সৃষ্টি করেছেন এ জন্য যে, মানুষ দুনিয়ায় কতটা সফলতা অর্জন করতে পারে, তা যাচাই করতে। (বাকি অংশ আগামী সংখ্যায়)

লেখক : জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি। ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ।

আরো পড়ুন: