হিন্দু মহাজোটের নেতা গোবিন্দ প্রামাণিকের গ্রেপ্তার দাবি করলেন সাংসদ বাহাউদ্দিন

হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিকের গ্রেপ্তার দাবি করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন।

আজ সোমবার বিকেলে কুমিল্লার টাউন হল মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রীতির পক্ষে গণ জমায়েত’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই দাবি জানান।

সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বলেন, গোবিন্দ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁকে গ্রেপ্তার করলেই কারা পূজামণ্ডপে হামলা করেছে, তা বেরিয়ে আসবে। তিনি সারা দেশের মানুষকে উসকে দিচ্ছেন।
কুমিল্লায় সব ধর্মের মানুষের একসঙ্গে বসবাস উল্লেখ করে সাংসদ বলেন, ‘এখানে সবার মধ্যে সম্প্রীতি আছে। যাঁরা চক্রান্ত করেছেন, তাঁদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এই ক্ষেত্রে প্রশাসনের দায়বদ্ধতা আছে। আমরাও তাঁদের সঙ্গে কাজ করব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কুমিল্লার আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান, আতিকউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক চিত্তরঞ্জন ভৌমিক, কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জি এস সহিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। এর আগে নগরের ২৭টি ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীরা কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জড়ো হন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বলেন, ‘গোবিন্দ প্রামাণিক পূজামণ্ডপে হামলার পর কুমিল্লায় এসেছেন। কে কে এই কাজ করেছেন, তা তিনি বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে গিয়ে বলেছেন। তিনি সারা দেশের এজেন্ট। তাঁকে ধরলে সব বেরিয়ে আসবে। আমি ইউটিউবে দেখেছি, গোবিন্দ প্রামাণিক কুমিল্লা নিয়ে কথা বলেছেন। তাই আমি আজকের টাউন হলের গণজমায়েত অনুষ্ঠানে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।’

যোগাযোগ করা হলে গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, উনি এলাকার সাংসদ, ওই এলাকার জনগনকে রক্ষা করার দায়িত্ব তাঁর। এলাকার লোকজন বলেছেন, সাংসদ এতটাই প্রভাবশালী যে বিএনপি–জামায়াত মানববন্ধন করতে পারে না। এই অবস্থায় উনার অবহেলা ছাড়া এ ঘটনা ঘটতে পারে না।

প্রসঙ্গত, কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫টি মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ জনকে আসামি করা হয়। এসব মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরো পড়ুন: