আমার নাম ভাঙিয়ে বা আমার আত্মীয় পরিচয়ে যেকোনো চাঁদাবাজি করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিন’

মিট দ্যা প্রেসে আবু রায়হান
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুমিল্লা মহানগর শাখার আহবায়ক আবু রায়হান বলেছেন , আমার নাম ভাঙিয়ে বা আমার আত্মীয় পরিচয়ে যেকোনো ব্যক্তি বা কোন ছাত্র চাঁদাবাজি করলে বা কোন অনৈতিক সুযোগ সুবিধা চাইলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন,কোন অনিয়ম বা বৈষম্যকে সমর্থন করেনা। ন্যয় প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় অনিয়মের প্রতিবাদ করার জন্যেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। সারাদেশে ১৫৮জন ছাত্র সমন্বয়ক রয়েছে তারা কেউ ই কোন অনৈতিক কাজের সাথে জরিত নয়।
তিনি আজ ১৬মার্চ কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় ও ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। আহবায়ক আবু রায়হান তার লিখিত বক্তব্যে আরো বলেছেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ছত্রে জনত্য রাজপথে রক্ত দিয়েছেন। এই রক্ত দেয়ার পিছনে একটাই লক্ষা ছিল, সেটা হল- দেশের বিভিন্ন স্তরে চলমান বৈষম্য ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা। এখনো দেশের বিভিন্ন স্তরে স্বৈরাচারী শেষ হাসিনার প্রেতাত্মারা অবস্থান করছেন। আমরা এখনো তাদের শনাক্ত ও অপসারণ করার জন্য আন্দোলন করা যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছি।
আমাদের এই কার্যক্রম চলাকালে কিছু অশুভ শক্তি ও সুবিধাবাদী লোকজন আমাদের নাম ভাঙিয়ে বিশেষ করে আমার লোক, কখনো আমার ভাই, কখনো আমার আত্মত্মীয় পরিচয় দিয়ে, কখনো সরাসরি কিংবা মুঠোফোনে আমার নাম ভাঙ্গিয়ে ভুক্তভোগী কিংবা দুর্নীতিবাজ লোকজনের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। এমন কিছু রেকর্ড আমার কাছে রয়েছে। কখনো আমার ভাই পরিচয় দিচ্ছেন, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে এমন অনৈতিক কাজ করছেন।
সুবিধেবাদী গোষ্ঠীর এহেন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড আমাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করছে। ছাত্র জনতার এই বিশাল অবদানকে কলঙ্কিত করার জন্য একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী মাঠে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে তৎপর রয়েছে। তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, পরিবহন, রামু মহাল, বিভিন্ন থানায় আমার নাম ভাঙ্গিয়ে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। কখনো কাউকে মামলায় নাম জড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনো মামলা থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য তদবির করছেন।
আজ আমি আপনাদের কাছে আমার অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য উপস্থিত হয়েছি। আমি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে সামনে নেতৃত্ব দিয়েছি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। দেশের মানুষ আমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে শরিক হয়েছেন। আমরা সফল হয়েছি। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি আছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সমাজের কিংবা প্রশাসনের রন্ধে রন্ধে যেসব দুর্নীতিবাজ অপশক্তি লুকিয়ে আছে তাদের সনাক্ত করতে, সেজন্যই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তার মানে এই নয় আমি আর্থিক সুবিধা নিয়ে কোনো অনৈতিক কাজ করব।
আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার, যতদিন বাঁচবো দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করব। আমার কর্মকাণ্ডে কোন নেতিবাচক বিষয় থাকবে না, থাকবে না কোন আর্থিক লেনদেন ও অনিয়ম। সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দের কাছে আমি অনুরোধ করছি, আমার নাম ভাঙিয়ে কিংবা আমার আত্মীয় পরিচয়ে যেকোনো চাঁদাবাজি কিংবা আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা যেন নেয়া হয়।
আমি কোন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবিধা ভোগি নই। তাই কোন অনিয়ম আমি সহ্য করব না। আর্থিক লেনদেন কে জড়িত এসব সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থ্য নেয়ার জন্য প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন মাহির তাজওয়ার ওহি সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক, নূর আলম হাসান, সংগঠক, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ।